আজ সকালের সঙ্গী ছিল পিয়া সরকারের এই সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার বইটি। থ্রিলার আমার বরাবরই প্রিয়, সেখানে এরকম কাহিনী হলে শেষ না করে ওঠা যায় না। টানা ৩ ঘন্টা পড়ে শেষ করেছি বইটি। দারুন একটা গল্প পড়লাম। সাক্ষী হলাম এক অন্ধকার অতীতের।
কোলাঘাট থানার এস.এইচ.ও সন্ধ্যেবেলায় থানায় বসেছিলেন, হঠাৎ থানার ফোনে খবর আসলো হোটেল রিভার শাইনে দীপিকা পোদ্দার নামে একটি কলেজ স্টুডেন্ট খুন হয়েছে।
ব্লু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতো কলকাতার বিখ্যাত কলেজের ছাত্রী দীপিকা পোদ্দার আর কোলাঘাট ইঞ্জিনিয়ারিং করেজের ছাত্র শিবাশিস স্যান্যাল। পুলিশের রেইড পড়ে শুটিং বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দীপিকা টাকার জন্য ব্ল্যাকমেল করতে থাকে যার দোকান থেকে ভিডিও আপলোড করা হতো সেই ব্যক্তি অর্থাৎ শিন্টু নামে একটি ছেলেকে। ব্ল্যাকমেলের মাত্রা ছাড়ালে শিন্টু দীপিকার সাথে বোঝাপড়া করে নেওয়ার জন্য মিটিং ফিক্সড করে এবং কথা কাটাকাটির ফলে মাথা গরম হয়ে যাওয়ায় সে দীপিকাকে খুন করে। কিন্তু সেই রাতেই আবার গায়েব হয়ে যায় দীপিকার সাথে ভিডিওতে কাজ করা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্র শিবাশিস স্যান্যাল।
পুলিশ তদন্ত করতে গিয়ে শিবাশিসের হদিশ না মেলায় তারা ভেবেছিল সে হয়তো এই খুনের সঙ্গে যুক্ত এবং ধরা পড়ার ভয়ে সে কলেজ থেকে পালিয়েছে। কিন্তু ঠিক ১২ বছর বাদে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের পেছনের জঙ্গল থেকে তারই মৃতদেহ পাওয়া যায়। পুলিশের জেরায় শিন্টু স্বীকার করেছে যে, দীপিকাকে খুন সেই করেছিল, কিন্তু শিবাশিসকে নয়। তাহলে শিবাশিসকে হত্যা করলো কে?
অন্যদিকে দীপিকা পোদ্দার খুনের ১২ বছর পর একটি রিইউনিয়নে জড়ো হয় কোলাঘাট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের পুরোনো চার বন্ধুর এক গ্রুপ। তাদের কথপোকথন থেকেই সামনে আসে শিবাশিস স্যান্যাল তাদের গ্রুপেরই একজন সদস্য ছিল। এখান থেকেই শুরু হয় আসল খেলা। একদিকে চলতে থাকে পুলিশি তদন্ত আর অন্যদিকে সন্দেহের তীরে বিঁধতে থাকে চারজন তাদের গ্রুপের একে অপরকে। কে এবং কেন খুন করেছে শিবাশিসকে? সন্দেহের কাঁটা ঘোরে কার দিকে? দায়ী কে এই খুনের জন্য?
কাহিনী খুব ছোটো পরিসরের। তবে এর মধ্যেও লেখিকা কাহিনীটিকে এতো সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন যার প্রসংশা না করে পারা যায় না। বিশেষ করে শেষের অংশটিতে পুরো হতবাক হয়ে গেছি আমি।
পাঠকদের বলবো বইটি অবশ্যই একবার পড়ে দেখবেন। ভালো লাগবে আশা করি।