বই- নিহত হওয়ার আগে ও পরেলেখিকা- পিয়া সরকারপ্রকাশক- বেঙ্গল ট্রয়কা পাবলিকেশনমূদ্রিত মূল্য- ২০০/- একটা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সংলগ্ন পচা ডোবা থেকে উদ্ধার হল একটা কঙ্কাল…সেই সাথে উঠে এলো অনেক ধামাচাপা পড়া সত্য, খোলা হল একটা ১২ বছরের পুরোনো কেস ফাইল। শুধু তাই নয়, বিবেক মন্থন করে উঠে এলো স্মৃতির অতলে হারিয়ে যাওয়া পাপ পুণ্যের অসম্পূর্ণ হিসেব। আপাতদৃষ্টিতে ক্রাইম থ্রিলার মনে হলেও আমার এই বইটাকে জটিল মনস্তাত্ত্বিক গল্প বলেই মনে হয়েছে। একটা হত্যাকাণ্ড ও চারজন বন্ধুর পুনর্মিলন উৎসব, আর তার মাঝেই চলছে সত্যি মিথ্যের লড়াই, অতীত ও বর্তমানের সংঘাত। ঘটনাবহুল কাহিনী নয়, চরিত্রের প্রাচুর্যও নেই… কিন্তু স্বল্প পরিসরেই লেখিকা বিবেকের ভূমিকা স্পষ্টভাবে চিত্রায়িত করেছেন। গল্পের শেষে উনি একটা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন পাঠকের কাছে, কোন অপরাধটা গুরুতর? কাউকে চিরতরে শেষ করে দেওয়া? নাকি কারোর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দিনের পর দিন মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে কাউকে জীবিত থাকতেই মেরে ফেলা? নাকি এসব কিছু দেখে শুনেও প্রতিবাদ না করে উল্টে উস্কানি দিয়ে পৈশাচিক উল্লাসে মেতে ওঠা? অথবা নিজের একটা অপরাধ লুকাতে আর একটা জঘন্য অপরাধ করা? আপাতদৃষ্টিতে ক্রাইম থ্রিলার মনে হলেও আমার এই বইটাকে জটিল মনস্তাত্ত্বিক গল্প বলেই মনে হয়েছে। সবথেকে ভালো লাগলো যে অহেতুক তথ্য আর সংলাপ দিয়ে লেখাটাকে টেনে হিঁচড়ে বড় করেননি লেখিকা। ওয়ান টাইম রীড হিসেবে বেশ ভালো বই।
📕 নিহত হওয়ার আগে ও পরে✍️পিয়া সরকার🖨️বেঙ্গল ট্রয়কা পাবলিকেশন🏷️ INR 200/- অনেকদিন ধরেই চাইছিলাম একটু অন্য স্বাদের থ্রিলার পড়বো, মানে কে খুনি? কেন খুন? কে ধরবে? কিভাবে ধরবে? ইসব গতানুগতিক প্রশ্নের ঊর্ধ্বে উঠে এমন একটা গল্প, যেখানে গল্প শেষ পাতায় পাঠকের দিকে ফিরে তাকিয়ে ঠান্ডা স্মিত এক হাসি হাসে। এবারের বইমেলা থেকে কেনা এই বইটি ঠিক সেই অভিজ্ঞতাই দিয়েছে, নিঃসন্দেহে এটি আমার স্মৃতিতে দীর্ঘদিন গেঁথে থাকবে।আমার কাছে থ্রিলার তখনই উপভোগ্য হয় যখন গল্পে থাকে নিরবচ্ছিন্ন সাসপেন্স। যেখানে পাঠক অনুমান করতে পারে, বিশ্লেষণ করারসুযোগ পায়, কিন্তু গল্পের গতি মোটেও ধীর হয় যায় না। লেখিকাকে কুর্নিশ, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই উত্তেজনা ধরে রাখার জন্য। প্রথমেই বলতে হয়, সীমিত পরিসরেও লেখিকা প্রতিটি চরিত্রকে সযত্নে নির্মাণ করেছেন। কখনো মনে হয় না যে চরিত্রগুলো শুধুমাত্র কাহিনীকে এগিয়ে নেওয়ার যন্ত্র, বরং প্রতিটি চরিত্রই জীবন্ত ও বিশ্বাসযোগ্য।প্লট অসাধারণ। রহস্যের সমাধানের পরেও একটি চমকপ্রদ পরিণতি অপেক্ষা করে, যা সত্যিই মর্মস্পর্শী। কখনো মনে হয় না যে চরিত্রগুলো শুধুমাত্র কাহিনীকে এগিয়ে নেওয়ার যন্ত্র, বরং প্রতিটি চরিত্রই জীবন্ত ও বিশ্বাসযোগ্য। তবে আমার মনে কিছু প্রশ্ন থেকে গেল, যেগুলোর আরও সুস্পষ্ট হলে হয়তো আরো ভালো লাগতো,~শিবাশিস নিরুদ্দেশ হওয়ার পর পুলিশ যথেষ্ট খোঁজাখুঁজি করেছিল, তাহলে হোস্টেলের ঠিক পাশের জঙ্গলটি তারা কেন খুঁটিয়ে তল্লাশি করল না বা চেষ্টা করা হলো না।~জঙ্গলের যেখানে মৃতদেহ ফেলে উপরে শুকনো ডালপালা দিলে সেই জায়গাটি আশেপাশের পরিবেশ থেকে আলাদা দেখায়। অভিজ্ঞ পুলিশ অফিসাররা ‘Disturbed Soil’ বা এলোমেলো মাটি দেখলেই সন্দেহ করতে পারতেন বলে মনে হয়।~দেহ টেনে নিয়ে যাওয়ার সময় মাটিতে দাগ (Drag Marks) থেকে যায়। জঙ্গলের নরম মাটিতে পায়ের ছাপ পড়াও স্বাভাবিক। বিশেষত শিবাশিস সুঠাম দেহের অধিকারী ছিল, তাই ধস্তাধস্তির চিহ্ন থাকার সম্ভাবনা প্রবল।যাই হোক, এই উপন্যাসটি সত্যিই অসাধারণ, এটি শুধু থ্রিলার নয়, আবার নিছক সামাজিক উপন্যাসও নয়। এই গল্প শেষ হয় মানবিকতার অন্ধকার অলিগলিতে।