বিষয়-সংক্ষেপ : হোটেল রিভার-শাইনে খুন হয় দীপিকা পোদ্দার নামে এক কলেজ স্টুডেন্ট । তদন্তে উঠে আসে – সে ব্লু-ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সাথে জড়িত ছিল । খুনিকে খুব সহজেই ধরে ফেলে পুলিশ । তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে – কোলাঘাট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ‘শিবাশিস সান্যাল’ নামের একজন স্টুডেন্টের সাথে এই ধরণের ভিডিওগুলো শ্যুট করত দীপিকা । পুলিশ শিবাশিসকে অ্যারেস্ট করতে গিয়ে দেখে সে আগেভাগেই পালিয়েছে । এই ঘটনার ১২ বছর পর একটি রিইউনিয়নে জড়ো হয় কোলাঘাট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের চার বন্ধুর এক গ্রুপ । তাদের কথোপকথন থেকে জানা যায় শিবাশিস সান্যাল তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুবৃত্তেরই একজন সদস্য ছিল । এইসময় চার বন্ধুর মধ্যে একজন, রঞ্জন জানায় – দু’মাস আগে কলেজের পিছনদিকের এক জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয়েছে একটা কঙ্কাল, পুলিশ সনাক্ত করেছে ঐ কঙ্কাল শিবাশিসের । এইবার ঐ চার-বন্ধু সন্দেহের তীর ছুঁড়তে শুরু করে একে অপরের দিকে । অন্যদিকে সমান তালে চলতে থাকে পুলিশি তদন্ত । কে খুন করেছিল শিবাশিসকে ? এত বছর পর কলেজের পিছনের জঙ্গল থেকে শিবাশিসের লাশটা উঠেই বা এল কিভাবে ? কোন কাহিনী লুকিয়ে আছে এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে ? প্রতিক্রিয়া : এই উপন্যাস দুর্দান্ত একটি ক্রাইম থ্রিলার, সাথে আছে ‘ডিটেকটিভ’ গল্পের টাচ্ । একটি রিইউনিয়ন, চারটি মূল চরিত্র এবং তাদের অন্ধকার অতীত – এই প্রেক্ষাপটে গল্পটি সাজিয়েছেন লেখিকা । প্রতিটি চরিত্র তৈরি করেছেন সুনিপুণভাবে । ছোট্ট প্লট এবং কাহিনী বিন্যাস খুব সীমিত পরিসরের হওয়া সত্ত্বেও, উপন্যাসটি বেশ জমজমাট । এই উপন্যাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হল – রহস্য সমাধান হয়ে যাওয়ার পরের অংশটি, যেখানে লেখিকা পাঠককে প্রবেশ করিয়েছেন মূল অপরাধীর মনের ভিতরে । ‘কেন’ – এই প্রশ্নের উত্তর জানতে পেরে ‘ঠিক-ভুল’, ‘ভালো-খারাপ’, ‘ন্যায়-অন্যায়’ – সবকিছু এলোমেলো হয়ে গিয়ে পাঠক ‘হতবাক’ হয়ে রয়ে যাবে । ‘নিহত হওয়ার আগে ও পরে’ উপন্যাসটি ‘প্রাপ্তমনস্ক’ পাঠকদের জন্য একটি ‘পারফেক্ট’ ক্রাইম থ্রিলার ।
চার বন্ধু ১২ বছর পর রিইউনিয়ন এ এসে জড়িয়ে পরে ২০০৮ এ ঘটে যাওয়া একটা খুনের তদন্তে। কলেজ এর পিছনের পুকুরে উদ্ধার হয় তাদের এক সহপাঠীর কঙ্কাল। কঙ্কাল এর গলায় যে প্যাঁচানো দড়ি সেটা এরা চারজনেই চিনতে পারে। তাহলে খুন টা কে করেছে? কলেজ জীবন, বন্ধুত্ব, লেগ পুলিং সমস্ত কিছুই আমাদের জীবনে কখনও মধুর আবার কখনও বিষাদ স্মৃতি বহন করে। নিঃসন্দেহে লেখিকা এক টানটান মার্ডার মিস্ট্রি খুব সুন্দরভাবে পাঠকদের সামনে তুলে ধরেছেন। তবে এটাকে স্রেফ straightforward মার্ডার মিস্ট্রি ভাবলে ভুল হবে।এটি আসলে একটি মৃত্যু কে কেন্দ্র করে কিছু চরিত্রের গল্প , শুরু থেকে যার উদ্দেশ্যে রহস্য উদ্ঘাটন নয়, কিন্তু চরিত্রগুলোর মনের গভীরের গ্রে এরিয়ার ফটোকপি তুলে আনা, এবং পাঠকের হাতে বিচার ছেড়ে দেওয়া। তবে আমার মনে হয়েছে—গল্পটা একটু বেশি স্লিম হয়ে গেছে ডায়েট করে। গদ্যে একটু মেদ, চরিত্রগুলোর আরও ব্যাক স্টোরি থাকলে সংযোগটা আরও গভীর হতো। বাংলার থ্রিলার ঘরানায় এমন নতুন ঢংয়ের লেখা সত্যিই ফ্রেশ লাগলো। যারা চরিত্র-কেন্দ্রিক থ্রিলার ভালোবাসেন, তাদের জন্য রেকমেন্ড করবো। Bookstagram- @boikit_jeet পার্সোনাল রেটিং – ৩.৫/৫
‘ বৃশ্চিকচক্র ‘ ও ‘ নিষাদ ‘ এর পর লেখিকার আবারও একটা unputdownable তবুও অনালোচিত স্বল্পায়তন থ্রিলার পড়া শেষ হল। পড়তে পড়তে কখন শেষ হয়ে গেল বুঝতেই পারলাম না। গল্পের অসম্ভব গতি শেষ অব্দি বসিয়ে রেখেছিল। ফলত, one sitting এই বইটা পড়া শেষ হয়ে গেল। কলেজ জীবনের চার বন্ধু রঞ্জন, রায়া, দীপ্ত ও সমীরণের reunion হয় তাজপুরের সমুদ্র সৈকতে। সেখানে রঞ্জন জানায় যে, তাদেরই কলেজের এক নিখোঁজ হয়ে যাওয়া সহপাঠীর কঙ্কাল উদ্ধার হয়েছে তাদেরই কলেজের পেছনের পরিত্যক্ত বাগান থেকে ১২ বছর পর। সেই মৃত্যু রহস্যের উন্মোচন করতে গিয়ে প্রকাশ পায় অনেক পুরোনো হিসেব নিকেশ। প্রেম, প্রত্যাখ্যান, স্বার্থপরতা, নির্যাতন এবং সবশেষে বন্ধুত্বের অমর্যাদা সব কিছু নিয়ে এক জমজমাট টানটান থ্রিলার। ঘটনার ডিটেলিং থেকে শুরু করে খুব স্বল্প পরিসরে খুনীর উদ্দেশ্য, খুন সব কিছু নিয়ে এরকম নিখুঁত বর্ণনা খুব কম থ্রিলারে পেয়েছি এযাবৎ…এই কৃতিত্ব অবশ্যই লেখিকার। দর্শনা বোস সিরিজ ছাড়াও লেখিকার অন্যান্য লেখার সাথে পরিচিত হওয়ার জন্য এই বইটা পড়া যায়। ধন্যবাদ
আজ সকালের সঙ্গী ছিল পিয়া সরকারের এই সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার বইটি। থ্রিলার আমার বরাবরই প্রিয়, সেখানে এরকম কাহিনী হলে শেষ না করে ওঠা যায় না। টানা ৩ ঘন্টা পড়ে শেষ করেছি বইটি। দারুন একটা গল্প পড়লাম। সাক্ষী হলাম এক অন্ধকার অতীতের। কোলাঘাট থানার এস.এইচ.ও সন্ধ্যেবেলায় থানায় বসেছিলেন, হঠাৎ থানার ফোনে খবর আসলো হোটেল রিভার শাইনে দীপিকা পোদ্দার নামে একটি কলেজ স্টুডেন্ট খুন হয়েছে। ব্লু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতো কলকাতার বিখ্যাত কলেজের ছাত্রী দীপিকা পোদ্দার আর কোলাঘাট ইঞ্জিনিয়ারিং করেজের ছাত্র শিবাশিস স্যান্যাল। পুলিশের রেইড পড়ে শুটিং বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দীপিকা টাকার জন্য ব্ল্যাকমেল করতে থাকে যার দোকান থেকে ভিডিও আপলোড করা হতো সেই ব্যক্তি অর্থাৎ শিন্টু নামে একটি ছেলেকে। ব্ল্যাকমেলের মাত্রা ছাড়ালে শিন্টু দীপিকার সাথে বোঝাপড়া করে নেওয়ার জন্য মিটিং ফিক্সড করে এবং কথা কাটাকাটির ফলে মাথা গরম হয়ে যাওয়ায় সে দীপিকাকে খুন করে। কিন্তু সেই রাতেই আবার গায়েব হয়ে যায় দীপিকার সাথে ভিডিওতে কাজ করা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্র শিবাশিস স্যান্যাল। পুলিশ তদন্ত করতে গিয়ে শিবাশিসের হদিশ না মেলায় তারা ভেবেছিল সে হয়তো এই খুনের সঙ্গে যুক্ত এবং ধরা পড়ার ভয়ে সে কলেজ থেকে পালিয়েছে। কিন্তু ঠিক ১২ বছর বাদে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের পেছনের জঙ্গল থেকে তারই মৃতদেহ পাওয়া যায়। পুলিশের জেরায় শিন্টু স্বীকার করেছে যে, দীপিকাকে খুন সেই করেছিল, কিন্তু শিবাশিসকে নয়। তাহলে শিবাশিসকে হত্যা করলো কে? অন্যদিকে দীপিকা পোদ্দার খুনের ১২ বছর পর একটি রিইউনিয়নে জড়ো হয় কোলাঘাট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের পুরোনো চার বন্ধুর এক গ্রুপ। তাদের কথপোকথন থেকেই সামনে আসে শিবাশিস স্যান্যাল তাদের গ্রুপেরই একজন সদস্য ছিল। এখান থেকেই শুরু হয় আসল খেলা। একদিকে চলতে থাকে পুলিশি তদন্ত আর অন্যদিকে সন্দেহের তীরে বিঁধতে থাকে চারজন তাদের গ্রুপের একে অপরকে। কে এবং কেন খুন করেছে শিবাশিসকে? সন্দেহের কাঁটা ঘোরে কার দিকে? দায়ী কে এই খুনের জন্য? কাহিনী খুব ছোটো পরিসরের। তবে এর মধ্যেও লেখিকা কাহিনীটিকে এতো সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন যার প্রসংশা না করে পারা যায় না। বিশেষ করে শেষের অংশটিতে পুরো হতবাক হয়ে গেছি আমি। পাঠকদের বলবো বইটি অবশ্যই একবার পড়ে দেখবেন। ভালো লাগবে আশা করি।
ছোট্ট বই।কিন্তু উত্তেজনা ভরপুর।যেনো আমাদের জীবন।সময় কম কিন্তু বড়োই গতিশীল। এটা একটা থ্রিলার। কয়েকটা খুন। কয়েকজন বন্ধু।আর তাদের জটিল সম্পর্ক।সৌন্দর্য,লোভ,প্রতিহিংসা,মাদকদ্রব্য,আর বাকি আদিম রিপুদের আনাগোনা।পাঁচজন প্রাণের বন্ধু।একজন খুন হলো।কিন্তু বাকি চারজন এর কি ভূমিকা সেই খুনের পিছনে? সম্পর্কের টানাপোড়েন,যৌনতা,বন্ধুত্ব,আর ভাঙন লেখনীতে ফুটে উঠেছে গভীর ভাবে।আর আছে তথাকথিত “নপুংসক”দের উপর চিরাচরিত অত্যাচার।শারীরিক,মানসিক,সামাজিক। স্মৃতিবিভ্রম কথা পরে মনে হয় এ যেনো আমাদের প্রত্যেকের মনের গোপন ইচ্ছে।আমরাও তো মুছে ফেলতে চাই আমাদের স্মৃতির কিছু অংশ।চিরতরে।শুধু বিশেষ কিছু অংশ। যাক আর হেয়ালি করবো না।বইটা পারলে পড়ে দেখবেন।
: নিহত হওয়ার আগে ও পরে : Piya Sarkar : বেঙ্গল ট্রয়কা পাবলিকেশন : ৪.২৫ / ৫ পিয়া সরকারের নিহত হওয়ার আগে ও পরে বইটি প্রথম পড়া শুরু করেই বুঝে গিয়েছিলাম—এটি এক বসায় শেষ না করে ওঠা যাবে না। করুণাময়ী থেকে বর্ধমানগামী বাসে বইটি খুলেছিলাম, আর দমদম পেরিয়ে ডানলপ পৌঁছানোর মধ্যেই ১১২ পাতার এই উপন্যাস শেষ! এত দ্রুত পড়ে ফেলার পেছনে একটাই কারণ—গল্পের টান। নাতিদীর্ঘ এই উপন্যাসে লেখিকা বন্ধুত্ব, প্রেম, হিংসা ও রহস্যকে এমনভাবে বুনেছেন যে কোথাও আলাদা করে কিছু চোখে পড়ে না, বরং সবকিছু মিলেমিশে একটি পূর্ণাঙ্গ আবহ তৈরি করেছে। সাধারণত বড় উপন্যাসে চরিত্রায়ন, রহস্যের স্তর নির্মাণ বা মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের জন্য বেশি পরিসর থাকে। কিন্তু এত কম পরিসরেও লেখিকা গল্পকে যত্নে গুছিয়ে একটি সম্পূর্ণতা দিয়েছেন—এটি সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। তবে শেষাংশে কিছু জায়গায় সামান্য অসঙ্গতি চোখে পড়েছে, আর সমাপ্তিটা আরও একটু গোছানো হতে পারত। তবুও মনে রাখতে হবে, এটি লেখিকার শুরুর দিকের কাজ। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে প্রচেষ্টা এবং সম্ভাবনা—দুটোই স্পষ্ট। সব মিলিয়ে, এই বছরের বইমেলায় লেখিকার পাঁচটি বই কেনার সিদ্ধান্ত একেবারেই ভুল ছিল না। বরং বাকি লেখাগুলো পড়ার জন্য এখন আরও বেশি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
পাঠ প্রতিক্রিয়া বইয়ের নাম:- নিহত হওয়ার আগে ও পরে লেখক:- পিয়া সরকার প্রচ্ছদ:- সুমন সরকার মুদ্রিত মূল্য:- 200 প্রকাশক- বেঙ্গল ট্রয়কা পাবলিকেশন **I declare that all of the statements are my personal opinion. Your opinion may differ and I welcome that. May contain spoiler. Thank you. প্রাককথন- পড়ে শেষ করলাম বর্তমান সময়ের অন্যতম সুলেখিকা পিয়া সরকারের ‘নিহত হওয়ার আগে ও পরে’। এটি একটি ইনভেস্টিগেটিভ থ্রিলার বা বলা ভালো রিভেঞ্জ থ্রিলার। তবে এটি পিয়া সরকারের অন্য দুই পুলিশ চরিত্র,দর্শনা’ অথবা ‘উমা’ সিরিজের অংশ নয়। এটি একটি স্বতন্ত্র এবং খুবই ছোট কাহিনী, মিনি কাহিনীও বলা যেতে পারে। বিষয়বস্তু:- দীপ্ত একজন বড়ো রহস্য বা ক্রাইম থ্রিলার লেখক। কয়েক বছর আগে দূর্ঘটনার ফলে তার সাময়িক স্মৃতিভ্রংশ হয়। তবে ধীরে ধীরে স্মৃতি ফিরে আসতে থাকে। বহু বছর পর দীপ্ত, রায়া, সমীরণ ও রঞ্জন একত্রে মিলিত হয় যেখানে তাদের কলেজ ও হোস্টেল ছিল। এরপর জানা যায় সেই হোস্টেল সংলগ্ন এলাকায় কিছুদিন আগে একটি কঙ্কাল উদ্ধার হয়েছে। পরীক্ষার পর নিশ্চিত করা হয় যে কঙ্কালটি তাদেরই সহপাঠীর, যে কিনা এতদিন ফেরার ছিল। হঠাৎ এতগুলো বছর পর চারবন্ধু মিলিত হওয়ার সন্ধিক্ষণে কোন রহস্য ঘনীভূত হতে চলেছে? এই কঙ্কালের সঙ্গে এই চারজনের কী সম্পর্ক? মতামত:- অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পিছনে মূলত দুটি কারণ থাকে। এক, অপরাধী এবং দ্বিতীয় তার পেছনে থাকা সেই ব্যক্তি যে অপরাধের মুখে ঠেলে দিয়ে অপরাধীর জন্ম দেয়। আইনের চোখে অপরাধী দোষী, সে সাজাও পায়। তবে সেই পর্দার আড়ালে থাকা ‘মেঘনাদ’ ? তার শাস্তি কি আইনের দরবারে হয় না নিয়তির দরবারে? গল্পটির সবথেকে বড়ো পজিটিভ দিক হল, কাহিনী একদমই মেদবর্জিত। কোনো চরিত্র বা ঘটনাকে অযথা টেনে নিয়ে যাওয়া হয়নি। এছাড়াও কাহিনীটি অত্যন্ত বাস্তব। বরাবরই পিয়া ম্যাডাম তার কাহিনীতে সমাজের কোনো না কোনো অন্ধকার দিক তুলে ধরেন। এই গল্পেও তার ব্যাতিক্রম ঘটেনি। বয়ঃসন্ধির সন্ধ্যাকালে শারীরিক ও মাসনিকগত অত্যাধিক পরিবর্তন প্রত্যেকটা মানুষকে আলাদাভাবে প্রভাবিত করে। জীবনের অভিজ্ঞতা আমাদের সেই প্রভাব থেকে মুক্ত করতে সাহায্য করে। কিন্তু এই সময় যদি জীবনের অভিজ্ঞতাই সাথ না দেয় তবে সেই প্রভাব আবদ্ধ করে রাখে। সুন্দরভাবে সেই বিষয়টি কাহিনীতে মিশিয়ে দিয়েছেন। তাছাড়া ragging এর মতো সংবেদনশীল বিষয়বস্তু ছুয়ে গেছেন। এর প্রভাব যে মনের ওপর কতটা সুদূরপ্রসারী তা কল্পনার বাইরে। মনে হয় যেন, ওগুলো ছোটবেলার মজার মতই নিষ্পাপ! স্কুল, কলেজে এই ধরণের অভিজ্ঞতা হলেই নির্দেশ আসে, “তোর বন্ধু তো, একটু অ্যাডজাস্ট করে নে” জাতীয় পরামর্শ পালনের। ইনভেস্টিগেশন যথাযথ, পুলিশের সাফল্যতা ও ব্যর্থতা দুইয়ের ব্যবহার করেছেন। গালির ব্যবহার করেছেন লেখিকা তবে কখনই সেটা মনে হয়নি অপ্রয়োজনীয়। তবে গল্পের প্রয়োজনে ১৮+ বিষয়বস্তু রাখা হয়েছে তাই এটি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। তবে কয়েকটি জায়গায় আরো ভালো হতে পারত- কথায় বলে সবচেয়ে সবল জায়গাটাই দূর্বলতম হয়। এক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে। লেখাটি অত্যাধিক ছোট মনে হয়েছে। যে ন্যারেটিভ এবং ক্যারেকটার বিল্ডিংয়ের কারণে দর্শনাকে একজন রক্তমাংসের পুলিশ বলে মনে হয়েছিল এখানে কোনো ক্যারেকটারই ঠিক করে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি। মনে হল যেন কিছুটা তাড়াহুড়ো করেই শেষ হয়ে গেল। দীপ্তকে বেশি স্পেস দেওয়া হলেও ‘রায়া’, ‘সমীরণে’র মতো চরিত্রগুলো কিছুটা উপেক্ষিত। রায়ার অবস্থান স্পষ্ট নয়। এমনকি তার প্রপার কোনো এন্ডিং রাখা হয়নি। এই কাহিনীর অপরাধী কে তা কয়েক পাতা পরার পরেই বোঝা যায়। এমনকি সেই ‘মেঘনাদ’ রূপী অপরাধীকেও প্রথম থেকেই চেনা যায়। এটা ঠিক ‘হুডানিট'(whodunit) হয়ে ওঠেনি।এইসব কারণে এটা পুলিশ প্রসিডিউর অপেক্ষা রিভেঞ্জ থ্রিলার হিসেবেই পরিবেশিত হয়েছে বলে মনে হয়েছে। এছাড়া পুলিশি তদন্তে কিছুটা ফাঁক লক্ষ্য করা যায়। ফেরার হলে আসামিকে তন্ন তন্ন করে খোঁজা হয় কিন্তু হোস্টেল সংলগ্ন জঙ্গল, যেখান থেকে কঙ্কাল পাওয়া যায় সেটা ঠিক মনঃপূত হল না। শ্যামলালের যে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য রাখা হয়েছে তাতে মানিব্যাগ, অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ঘরে দেখেও তখন সন্দেহ না হওয়াটাও ঠিক মনে ধরেনি। বইটিতে অলঙ্করণ নেই, দু-তিনটি বাক্যে প্রমাদ চোখে পড়েছে। তবে সংবেদনশীল বিষয়গুলি শুধুমাত্র ছু্ঁয়েই বেরিয়ে গেছেন। আরো বিস্তারিতভাবে বর্ণনা আশা করেছিলাম, যেমনটা ‘নিষাদে’ দেখেছি। তবে এই কথাটা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে এটি পিয়া সরকারের প্রথম দিকের একটি লেখা। এত ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও বইটিকে বেশ উপভোগ্য করে তুলতে পেরেছেন। বিশেষ করে, যে দুটি বিষয় বেছে নিয়েছেন সেটা নিয়ে বাংলায় খুব কম কাজ করা হয়েছে। এইজন্যই পরবর্তীতে দর্শনা বোসের মতো সফল ও জনপ্রিয় চরিত্রের কাহিনী উপহার দিয়েছেন। যদি কেউ প্রথমবারের জন্য পিয়া ম্যাডামের লেখা পড়তে শুরু করতে চায়, তবে এই থ্রিলারটি দিয়েই পরিচয় করানো উচিত। সবমিলিয়ে পিয়া সরকারের অন্যান্য লেখার কাছে কিছুটা ফিকে হলেও যথেষ্ট উজ্জ্বল। টানটান থ্রিলিংয়ের জন্য পাশ মার্কস দেওয়াই যায়। ব্যাক্তিগত রেটিং- 7/10
শেষ বছরের সারপ্রাইজ হিট “বৃশ্চিকচক্র” পড়ে আমরা যখন সবাই প্রিয়া সরকার ম্যাজিকে ডুবে আছি তখন “নিহত হওয়ার আগে ও পরে” বইটির কথা জানতে পারি। বিভিন্ন কারণবশত বইটি এতদিন পড়তে না পারলেও অবশেষে সংগ্রহ করলাম এবং পড়ে ফেললাম, এবং বলতে বাধা নেই এই বই আমার যাবতীয় এক্সপেক্টেশনকে ছাপিয়ে গেছে। কেন সেটা হয়তো ডিটেলসে এই রিভিউতে বলতে পারব না, কারণ যারা পড়েন নি তাদের জন্য সেটা স্পয়লার হয়ে যাবে। খুব সংক্ষেপে বলতে গেলে কাহিনীটা এরকম। কলেজ থেকে বেরোনোর প্রায় বছর দশেক পরে চার বন্ধু মিলিত হয় তাজপুরের কাছাকাছি একটি সিসাইড বাংলোতে। ঘুরেফিরে উঠে আসে বারো বছর আগের এক (অথবা দুই) হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এবং ধীরে ধীরে এই চার বন্ধু একে অপরের প্রতি অভিযোগ আনেন সেই হত্যাকাণ্ড নিয়ে। জড়িয়ে পড়ে এক পুলিশ ইন্সপেক্টর যিনি বারো বছর আগেও সেই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে যুক্ত ছিলেন। এটুকু পড়ে মনে হতেই পারে যে এরকম গল্প আগেও পড়েছি। কিন্তু বিশ্বাস করুন, পড়েননি। প্রথম কারণ গল্পের কথক এক বিখ্যাত লেখক (সেই চার বন্ধুর একজন) যার বছর দুয়েক আগে এক অ্যাক্সিডেন্টের ফলে পার্শিয়াল এমনেসিয়া হয়েছে। ফলে পাঠককে পড়তে হয় এক আনরিলায়বেল ন্যারেটরের পাল্লায়, যা বিভ্রান্তি তৈরি করে কোনটা সত্যি আর কোনটা মিথ্যা অথবা কতটাই বা আমরা জানি। দ্বিতীয়ত এই উপন্যাসকে সম্পূর্ণ আলাদা করে দিয়েছে এর ক্লাইম্যাক্স। কারা আসল দোষী সেটা জানার পরেও গল্পের শেষের দিকে রয়েছে এক মারাত্মক টুইস্ট যা আমাকে বিভ্রান্ত করে দিয়েছিল কোনটা সাদা আর কোনটাই বা কালো। গল্পের শেষ দশ পাতায় দুই চরিত্রের মধ্যে কথোপকথন আমার মনে হয়েছে এই উপন্যাসের সবচেয়ে হায়েস্ট পয়েন্ট, এবং বিশ্বাস করুন ততক্ষণে কিন্তু আমরা জেনে গেছি আসল হত্যাকারী কে বা কারা কিন্তু আমরা এটা জানিনি সত্যিকারের খারাপ কে। আর ঠিক এই কারণেই এই উপন্যাসটি একটি সাধারণ রহস্য কাহিনী থেকে উত্তীর্ণ হয়েছে এক অসাধারণ সাহিত্যকর্মে। কুদোস পিয়া সরকার।
নিহত হওয়ার আগে ও পরে। অনেকদিন ধরে পড়ার খুব ইচ্ছে ছিল। বইটি কি খুব ভাল? নাকি মোটামুটি?
বই- নিহত হওয়ার আগে ও পরেলেখিকা- পিয়া সরকারপ্রকাশক- বেঙ্গল ট্রয়কা পাবলিকেশনমূদ্রিত মূল্য- ২০০/- একটা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সংলগ্ন পচা ডোবা থেকে উদ্ধার হল একটা কঙ্কাল…সেই সাথে উঠে এলো অনেক ধামাচাপা পড়া সত্য, খোলা হল একটা ১২ বছরের পুরোনো কেস ফাইল। শুধু তাই নয়, বিবেক মন্থন করে উঠে এলো স্মৃতির অতলে হারিয়ে যাওয়া পাপ পুণ্যের অসম্পূর্ণ হিসেব। আপাতদৃষ্টিতে ক্রাইম থ্রিলার মনে হলেও আমার এই বইটাকে জটিল মনস্তাত্ত্বিক গল্প বলেই মনে হয়েছে। একটা হত্যাকাণ্ড ও চারজন বন্ধুর পুনর্মিলন উৎসব, আর তার মাঝেই চলছে সত্যি মিথ্যের লড়াই, অতীত ও বর্তমানের সংঘাত। ঘটনাবহুল কাহিনী নয়, চরিত্রের প্রাচুর্যও নেই… কিন্তু স্বল্প পরিসরেই লেখিকা বিবেকের ভূমিকা স্পষ্টভাবে চিত্রায়িত করেছেন। গল্পের শেষে উনি একটা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন পাঠকের কাছে, কোন অপরাধটা গুরুতর? কাউকে চিরতরে শেষ করে দেওয়া? নাকি কারোর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দিনের পর দিন মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে কাউকে জীবিত থাকতেই মেরে ফেলা? নাকি এসব কিছু দেখে শুনেও প্রতিবাদ না করে উল্টে উস্কানি দিয়ে পৈশাচিক উল্লাসে মেতে ওঠা? অথবা নিজের একটা অপরাধ লুকাতে আর একটা জঘন্য অপরাধ করা? আপাতদৃষ্টিতে ক্রাইম থ্রিলার মনে হলেও আমার এই বইটাকে জটিল মনস্তাত্ত্বিক গল্প বলেই মনে হয়েছে। সবথেকে ভালো লাগলো যে অহেতুক তথ্য আর সংলাপ দিয়ে লেখাটাকে টেনে হিঁচড়ে বড় করেননি লেখিকা। ওয়ান টাইম রীড হিসেবে বেশ ভালো বই।