📕 নিহত হওয়ার আগে ও পরে
✍️পিয়া সরকার
🖨️বেঙ্গল ট্রয়কা পাবলিকেশন
🏷️ INR 200/-
অনেকদিন ধরেই চাইছিলাম একটু অন্য স্বাদের থ্রিলার পড়বো, মানে কে খুনি? কেন খুন? কে ধরবে? কিভাবে ধরবে? ইসব গতানুগতিক প্রশ্নের ঊর্ধ্বে উঠে এমন একটা গল্প, যেখানে গল্প শেষ পাতায় পাঠকের দিকে ফিরে তাকিয়ে ঠান্ডা স্মিত এক হাসি হাসে। এবারের বইমেলা থেকে কেনা এই বইটি ঠিক সেই অভিজ্ঞতাই দিয়েছে, নিঃসন্দেহে এটি আমার স্মৃতিতে দীর্ঘদিন গেঁথে থাকবে।
আমার কাছে থ্রিলার তখনই উপভোগ্য হয় যখন গল্পে থাকে নিরবচ্ছিন্ন সাসপেন্স। যেখানে পাঠক অনুমান করতে পারে, বিশ্লেষণ করারসুযোগ পায়, কিন্তু গল্পের গতি মোটেও ধীর হয় যায় না। লেখিকাকে কুর্নিশ, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই উত্তেজনা ধরে রাখার জন্য।

প্রথমেই বলতে হয়, সীমিত পরিসরেও লেখিকা প্রতিটি চরিত্রকে সযত্নে নির্মাণ করেছেন। কখনো মনে হয় না যে চরিত্রগুলো শুধুমাত্র কাহিনীকে এগিয়ে নেওয়ার যন্ত্র, বরং প্রতিটি চরিত্রই জীবন্ত ও বিশ্বাসযোগ্য।
প্লট অসাধারণ। রহস্যের সমাধানের পরেও একটি চমকপ্রদ পরিণতি অপেক্ষা করে, যা সত্যিই মর্মস্পর্শী।
কখনো মনে হয় না যে চরিত্রগুলো শুধুমাত্র কাহিনীকে এগিয়ে নেওয়ার যন্ত্র, বরং প্রতিটি চরিত্রই জীবন্ত ও বিশ্বাসযোগ্য।
তবে আমার মনে কিছু প্রশ্ন থেকে গেল, যেগুলোর আরও সুস্পষ্ট হলে হয়তো আরো ভালো লাগতো,
~শিবাশিস নিরুদ্দেশ হওয়ার পর পুলিশ যথেষ্ট খোঁজাখুঁজি করেছিল, তাহলে হোস্টেলের ঠিক পাশের জঙ্গলটি তারা কেন খুঁটিয়ে তল্লাশি করল না বা চেষ্টা করা হলো না।
~জঙ্গলের যেখানে মৃতদেহ ফেলে উপরে শুকনো ডালপালা দিলে সেই জায়গাটি আশেপাশের পরিবেশ থেকে আলাদা দেখায়। অভিজ্ঞ পুলিশ অফিসাররা ‘Disturbed Soil’ বা এলোমেলো মাটি দেখলেই সন্দেহ করতে পারতেন বলে মনে হয়।
~দেহ টেনে নিয়ে যাওয়ার সময় মাটিতে দাগ (Drag Marks) থেকে যায়। জঙ্গলের নরম মাটিতে পায়ের ছাপ পড়াও স্বাভাবিক। বিশেষত শিবাশিস সুঠাম দেহের অধিকারী ছিল, তাই ধস্তাধস্তির চিহ্ন থাকার সম্ভাবনা প্রবল।
যাই হোক, এই উপন্যাসটি সত্যিই অসাধারণ, এটি শুধু থ্রিলার নয়, আবার নিছক সামাজিক উপন্যাসও নয়। এই গল্প শেষ হয় মানবিকতার অন্ধকার অলিগলিতে।