শেষ বছরের সারপ্রাইজ হিট “বৃশ্চিকচক্র” পড়ে আমরা যখন সবাই প্রিয়া সরকার ম্যাজিকে ডুবে আছি তখন “নিহত হওয়ার আগে ও পরে” বইটির কথা জানতে পারি। বিভিন্ন কারণবশত বইটি এতদিন পড়তে না পারলেও অবশেষে সংগ্রহ করলাম এবং পড়ে ফেললাম, এবং বলতে বাধা নেই এই বই আমার যাবতীয় এক্সপেক্টেশনকে ছাপিয়ে গেছে। কেন সেটা হয়তো ডিটেলসে এই রিভিউতে বলতে পারব না, কারণ যারা পড়েন নি তাদের জন্য সেটা স্পয়লার হয়ে যাবে।
খুব সংক্ষেপে বলতে গেলে কাহিনীটা এরকম। কলেজ থেকে বেরোনোর প্রায় বছর দশেক পরে চার বন্ধু মিলিত হয় তাজপুরের কাছাকাছি একটি সিসাইড বাংলোতে। ঘুরেফিরে উঠে আসে বারো বছর আগের এক (অথবা দুই) হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এবং ধীরে ধীরে এই চার বন্ধু একে অপরের প্রতি অভিযোগ আনেন সেই হত্যাকাণ্ড নিয়ে। জড়িয়ে পড়ে এক পুলিশ ইন্সপেক্টর যিনি বারো বছর আগেও সেই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে যুক্ত ছিলেন।
এটুকু পড়ে মনে হতেই পারে যে এরকম গল্প আগেও পড়েছি। কিন্তু বিশ্বাস করুন, পড়েননি। প্রথম কারণ গল্পের কথক এক বিখ্যাত লেখক (সেই চার বন্ধুর একজন) যার বছর দুয়েক আগে এক অ্যাক্সিডেন্টের ফলে পার্শিয়াল এমনেসিয়া হয়েছে। ফলে পাঠককে পড়তে হয় এক আনরিলায়বেল ন্যারেটরের পাল্লায়, যা বিভ্রান্তি তৈরি করে কোনটা সত্যি আর কোনটা মিথ্যা অথবা কতটাই বা আমরা জানি। দ্বিতীয়ত এই উপন্যাসকে সম্পূর্ণ আলাদা করে দিয়েছে এর ক্লাইম্যাক্স। কারা আসল দোষী সেটা জানার পরেও গল্পের শেষের দিকে রয়েছে এক মারাত্মক টুইস্ট যা আমাকে বিভ্রান্ত করে দিয়েছিল কোনটা সাদা আর কোনটাই বা কালো। গল্পের শেষ দশ পাতায় দুই চরিত্রের মধ্যে কথোপকথন আমার মনে হয়েছে এই উপন্যাসের সবচেয়ে হায়েস্ট পয়েন্ট, এবং বিশ্বাস করুন ততক্ষণে কিন্তু আমরা জেনে গেছি আসল হত্যাকারী কে বা কারা কিন্তু আমরা এটা জানিনি সত্যিকারের খারাপ কে। আর ঠিক এই কারণেই এই উপন্যাসটি একটি সাধারণ রহস্য কাহিনী থেকে উত্তীর্ণ হয়েছে এক অসাধারণ সাহিত্যকর্মে।
কুদোস পিয়া সরকার।