গল্পসংক্ষেপ:
তিন কলেজছাত্রের অদূরদর্শিতা আর অবিশ্বাসের ফলশ্রুতিতে জেগে ওঠে এক পিশাচশক্তি। অন্যদিকে, রম্যানির জীবন জড়িয়ে যায় রহস্যময় স্বপ্নের জালে— স্বপ্নে কারুর যেন বিপদের আভাস পায়। কে সে? আভেরি, সৌম্য আর রম্যানি ধীরে ধীরে আবর্তিত হন এক ভয়ঙ্কর রহস্যের কেন্দ্রে। প্রশ্ন একটাই: রম্যানি কি তার বন্ধুদের বাঁচাতে পারবে? নাকি এই অশুভ শক্তি সবাইকে টেনে নেবে কোনো অন্ধকার গহ্বরে? গল্পের শেষ পাতায় পৌঁছে উত্তর জানলেও, যাত্রাপথের প্রতিটি মোড় আপনাকে স্তব্ধ করে দেবে।
নিজস্ব রিভিউ:
অভিষেকবাবুর কলমে গল্প বলার শৈলী যেন এক hypnosis—ধীরে ধীরে পাঠককে টেনে নেয় গভীরে। শুরুটা নিঃশব্দে জমে ওঠা তুষারের মতো, কিন্তু মধ্যবর্তী অংশ থেকেই তা গলতে শুরু করে স্রোতে পরিণত হয়। আর ক্লাইম্যাক্সে মিশে যায় হিন্দু তন্ত্র ও খ্রিস্টান ধর্মের আচার—এক কথায় অনবদ্য! অতিপ্রাকৃতের সঙ্গে বাস্তবের সমান্তরাল টানাপোড়েন, চরিত্রদের মানসিক দ্বন্দ্ব—সব মিলিয়ে গল্পের ফ্রেমওয়ার্ক পাকা।

উজ্জ্বল দিক:
· এতদিন ভৌতিক গল্পতে বৌদ্ধতন্ত্র ও হিন্দু তন্ত্রমন্ত্র মেলবন্ধন দেখেছি কিন্তু এই গল্পে হিন্দু ও খ্রিস্টান রীতিনিতি উঠে এসেছে, এই মিশ্রণ বাংলা সাহিত্যে নতুন।
· রম্যানির দ্বির মানসিকতা, আভেরির জেদ, সৌম্যের যুক্তিবাদী মন—প্রত্যেকেরই লেয়ারড পার্সোনালিটি পাঠককে জুড়ে রাখবে।
· শিশুমনে হিংসতার প্রভাব, বিকৃত ভালোবাসা কীভাবে অদূর ভবিষ্যতে প্রভাব বিস্তার করে এই গল্পতে সেটা ভালো ভাবে বোঝানো হয়েছে।
· “বুনি” নামের রহস্যময় শিশুটির উপস্থিতি পরবর্তী বইয়ের জন্য উসকানি দিয়েছে চমৎকারভাবে। আমরা সবাই অধীরআগ্রহে অপেক্ষা করে থাকবো সমিত্রার মৃত্যু কি ভাবে হয়েছিল সেটা জানার জন্য।
কিছুটা আক্ষেপ:
· গল্পে অনেক চরিত্র বর্ণিত আছে কিন্তু তিনটি প্রধান চরিত্র ছাড়া আর কেউ কোনভাবে দাগ কাটেনা।
· মিসেস গোমজ এর রহস্যময় দিক খুব ভালো করে প্রথমে লেখা হলেও শেষে অনেক প্রশ্নের উত্তর পেলামনা।
· গল্পের কিছু ঘটনা predictable and repetitive মনে হয়েছে।
· গল্পে অনেক ঘটনা এমন ভাবে বর্ণিত হয়েছে যেটা এখনকার দিনে ঘটা বিরল। অনেক কিছু সমাপতন হয়েছে কিন্তু এগুলো suspension of disbeliefহিসাবে মেনে নেওয়া যায় গল্পের তাগিদে।
· বইটির ডাস্ট জ্যাকেটের মান খুব ভালো নয়, পাতার গুণগত মানও উন্নত হতে পারত, এবং অভ্যন্তরে কোনো ইলাস্ট্রেশন নেই, যা গল্পের পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ করতে পারত।
মোট মূল্যায়ন:
“পাতালকুহেলি” শুধু ভৌতিক গল্প নয়—একটি সাইকোলজিক্যাল, ভৌতিক থ্রিলার যেখানে অতিপ্রাকৃতের পাশাপাশি কাজ করে মানবমনের অন্ধকার। অভিষেকবাবুর গল্প বলার ঢং, গবেষণা, আর চরিত্রদের প্রাণবন্ত উপস্থাপন বইটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। হরর-থ্রিলার প্রেমীদের জন্য এটি অবশ্যপাঠ্য। এখনকারদিনের লেখা অন্যান্য ভৌতিক গল্পের থেকে এটিঢের ভালো। পরবর্তী বইয়ের জন্য উৎকণ্ঠা রইল—”বুনি”র রহস্য কী, সেটাই এখন জানার অপেক্ষা!