❀ রৌরব / রজত শুভ্র কর্মকার
❀ বেঙ্গল ট্রয়কা পাবলিকেশন / ১৯০ টাকা
❀ প্রচ্ছদ: কৃষ্ণেন্দু মন্ডল
❀ অলংকরণ: লেখক স্বয়ং 🙏
‘রৌরব‘ — বিষ্ণুপুরাণ, ভাগবত বা দেবী ভাগবতের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নরক সেই সব মানুষদের জন্য বরাদ্দ, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলে, ঈর্ষাবশত অন্যের সর্বনাশ ঘটায় কিংবা স্বার্থপরতায় নিমজ্জিত হয়ে নৈতিকতাকে উপেক্ষা করে। এই গল্পসংকলন ঠিক এই ভাবনা থেকেই উদ্ভূত।
তবে এটি কেবল পুরাণ-ভিত্তিক কল্পনা নয়—বরং পুরাণ ও আধুনিক মনস্তত্ত্বের এক অনবদ্য সংমিশ্রণ। ‘রৌরব’-এর প্রতিটি গল্প আমাদের সেই অদৃশ্য, কিন্তু প্রবল আত্মিক নরকের দিকে ঠেলে দেয়—যেখানে দগ্ধ হয় বিবেক, জ্বলে ওঠে প্রতিহিংসা, আর প্রশ্ন ওঠে—মানুষের মনের অন্ধকার তাকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে?

বইটিতে মোট ১০টি গল্প রয়েছে:
১. একটি চুক্তি, মাকড়সা এবং একটি অভিশপ্ত গিটার
২. কালদণ্ড
৩. মুংরি
৪. খোঁজ
৫. খোলস
৬. শিরা
৭. সময়
৮. জাল
৯. ধোঁয়া
১০. নিরুপমা
গল্পের শেষে অনেক সময়ই এমন এক মোচড় আসে, যা পাঠককে ‘বেশ হয়েছে’ বলার স্বস্তি ও আনন্দ দেয়।
‘পাপ ও প্রতিফল’ অদৃশ্য সুতোর মতো এই গল্পগুলোকে জড়িয়ে রেখেছে। গল্পগুলোতে রয়েছে ষড়রিপুর চলন, বিশেষত ক্রোধ, লোভ, এবং ঈর্ষা—যা চরিত্রগুলির সিদ্ধান্ত ও পরিণতিকে চালিত করে। প্রতিশোধ এবং বিচারবোধ গল্পগুলোকে চালকের আসনে রাখে, কিন্তু সেটা একেবারেই মুখরোচক রূপে নয়—বরং ধীরে ধীরে, ভয়াবহ এক নৈতিক চিত্রনাট্যের মধ্যে।
লেখকের ভাষা স্বচ্ছ, সংবেদনশীল এবং বর্ণনামূলক। চরিত্রচিত্রণে রয়েছে বাস্তবতার ছোঁয়া, আবার কোথাও কোথাও বিমূর্ততার ধোঁয়াশাও। গল্পের শেষে অনেক সময়ই এমন এক মোচড় আসে, যা পাঠককে ‘বেশ হয়েছে’ বলার স্বস্তি ও আনন্দ দেয়। পাঠ শেষে এক ধরনের ভার ও ভাবনার রেখা রেখে যায় প্রতিটি গল্প।
বইটির কিছু গল্প আরও বিস্তৃত হতে পারত, চরিত্রদের অতীত বা তাদের মনের গহীনে প্রবেশ করার সুযোগও ছিল। যাই হোক, যদি একটু অন্যরকম, ধারালো, ভাবনার খোরাক জোগানো গল্প পড়তে চান—যেখানে পুরাণ, মানসিক অন্ধকার আর ন্যায়বিচারের চূড়ান্ত পরিণতি একসঙ্গে জট বাঁধে—তাহলে ‘রৌরব’ আপনার জন্য। এটা নিছক গল্প নয়, একরকম অভিজ্ঞতা। ভয় পেতে নয়, তার মুখোমুখি হতে চাইলে অবশ্যই পড়ুন।